জিএম সোহাগ - ১ নং আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২৬ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।



প্রিয় ১ নং আমখোলা ইউনিয়নবাসী,

আমি জিএম সোহাগ। আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই একজন। আপনাদের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নকে হৃদয়ে ধারণ করেই আমার পথচলা।

আমার শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেটেছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা-তে। সেখানে পড়াশোনা করে আমি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি।

এই রাজনৈতিক পথচলা আমার জন্য কখনোই সহজ ছিল না। জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়ের একটি বড় অংশ আমি রাজনীতির পেছনে ব্যয় করেছি। কখনো রাজপথে, কখনো মিছিল-সমাবেশে, কখনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে—সংগঠনের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই কাজ করে গেছি।

বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে বিভিন্ন ধরনের হুমকি, হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মামলা ও গ্রেপ্তارهای আশঙ্কায় আত্মগোপনে থেকে দিন কাটানোর মতো কঠিন সময়ও পার করেছি। স্বাভাবিক জীবনযাপন, পরিবার ও ব্যক্তিগত স্বاচ্ছন্দ্য—অনেক কিছুই বিসর্জন দিতে হয়েছে।

তারপরও পিছিয়ে যাইনি।

দলের সিদ্ধান্ত ও আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজপথে থেকেছি। জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতেও রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। অনেক সময় পকেটে টাকা ছিল না, পরনে ছিল সাধারণ পোশাক, পেটে খাবার ছিল না—তবুও মিছিল-সমাবেশে থেকেছি। কারণ তখন আমার কাছে রাজনীতি কোনো স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম ছিল না; ছিল বিশ্বাস, দায়িত্ব ও আদর্শের জায়গা।

আজ সময় বদলেছে। আমার সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও অর্জনকে এবার আমি আমার নিজের এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই।

আমি রাজনীতি করেছি মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য। এখন মানুষের সেবা করতে চাই।

আমি বিশ্বাস করি, একজন জনপ্রতিনিধির আসল পরিচয় তার পদ নয়—জনগণের পাশে সে কতটা দাঁড়াতে পারে, সেটিই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১ নং আমখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী

আমি কোনো বড় বড় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিতে চাই না। আমি চাই, বাস্তবতার আলোকে মানুষের সমস্যাগুলো শুনতে এবং সাধ্যের মধ্যে সেগুলোর সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করতে।

আমার অঙ্গীকার—

  • দল-মত নির্বিশেষে সকলের পাশে থাকব।
  • দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেব।
  • সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।
  • রাস্তা, ব্রিজ, পানি নিষ্কাশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে গুরুত্ব দেব।
  • তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগী হব।
  • কৃষক, শ্রমজীবী, নারী, প্রবীণ ও অসহায় মানুষের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনব।
  • দুর্যোগ ও বিপদের সময়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।
  • সবচেয়ে বড় কথা—চেয়ারম্যানের পদকে ক্ষমতার আসন নয়, জনগণের আমানত হিসেবে দেখব।

প্রিয় আমখোলাবাসী,

রাজনীতির কঠিন সময়ে আমি আপনাদের কাছে কিছু চাইনি। আজ যখন আপনাদের সেবা করার সুযোগ প্রত্যাশা করছি, তখনও আপনাদের কাছে আমার প্রথম চাওয়া আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা।

আমার জীবনের যে সময়, শ্রম ও ত্যাগ রাজনীতির পেছনে ব্যয় করেছি, সেই অভিজ্ঞতা যদি আপনাদের সেবায় কাজে লাগাতে পারি—তাহলেই আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হবে।

আমি চাই, ১ নং আমখোলা ইউনিয়ন হোক একটি আদর্শ, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন।

আমি একা কিছু করতে পারব না। আপনাদের সহযোগিতা, পরামর্শ ও ভালোবাসা নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।

আপনারা আমাকে আপনাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করবেন—এই প্রত্যাশা রাখি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করছি।

আল্লাহ যেন মানুষের আমানত রক্ষা করার তৌফিক দেন এবং আমখোলা ইউনিয়নের মানুষের খেদমত করার সুযোগ দেন।

আপনাদের দোয়া চাই।
আপনাদের ভালোবাসা চাই।
আপনাদের পাশে থাকার সুযোগ চাই।

জিএম সোহাগ

যুগ্ম আহ্বায়ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা।

إرسال تعليق (0)
أحدث أقدم