‎আইটেম গান নিয়ে প্রতিবাদ দানা বাঁধছে বলিউডে



‎বলিউড সিনেমার অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় আইটেম গান। এমনও হয়, একটি মাত্র আইটেম গান দিয়েই পুরো সিনেমা হিট হয়ে যায়। ভারতীয় বাণিজ্যিক সিনেমার বহু পুরোনো ফর্মুলা এই ‘আইটেম সং’ এবার বেশ বড়সড় ধাক্কা খেল। একসময় যা বিনোদন, গ্ল্যামার বা নিখাদ আনন্দ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হতো, তা নিয়ে এখন তীব্র প্রশ্ন তুলছেন তরুণ দর্শকরা। তাদের মতে, আইটেম গানের মাধ্যমে নারীকে পণ্য হিসেবেই তুলে ধরা হয়। ক্যামেরা, গান আর নাচের কোরিওগ্রাফিতে নারীকে কেবলই ‘পণ্যায়ন’ করার এই প্রবণতা আর সহজে পার পাচ্ছে না।সম্প্রতি ডেভিড ধাওয়ানের ছবিতে বরুণ ধাওয়ানের মায়ের চরিত্রে মৌনী রায়ের কাস্টিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার সেই ছবির গান ‘হ্যায় জাওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’-তে একঝাঁক পুরুষের মধ্যে মৌনীর আবেদনময়ী উপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিতর্কের মুখে পড়েছেন নোরা ফাতেহিও। ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ সিনেমায় নোরার ‘সরকে চুনার তেরি সরকে’ গানের কোরিওগ্রাফি ও লিরিকস নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন। গানটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখায় দর্শক। তাদের স্পষ্ট কথা—সৃজনশীলতার নামে নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

‎বাদ যাননি জাহ্নবী কাপুরও। রামচরণের ‘পেড্ডি’ সিনেমায় তার চরিত্রটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে দর্শক ক্ষুব্ধ। স্ক্রিনে তাকে কেবলই এক ‘আকাঙ্ক্ষার বস্তু’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যার কোনো নিজস্ব গুরুত্ব নেই। এ নিয়েও জলঘোলা চলছে।

বলিউড সিনেমায় আইটেম গান নিয়ে এখন সরব হচ্ছে সব শ্রেণির দর্শক। নারীকে পণ্য হিসেবে তুলে না ধরে, গুরুত্ব দিয়ে পর্দায় হাজির করার দাবিও ওঠে। বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য নারীকে শুধু রূপ আর নাচেই সীমাবদ্ধ রাখার দিন যে ফুরিয়ে আসছে, এই প্রতিবাদগুলো তারই বড় প্রমাণ।

إرسال تعليق (0)
أحدث أقدم