ডেস্ক রিপোর্ট | আপডেট: ১০:৩৪ অপরাহ্ন, ৪ জুন ২০২৬
মূল ঘটনা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।
হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া
হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে 'নির্লজ্জ' ও 'অগ্রহণযোগ্য' বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে:
- এটি লেবাননের জনগণের একটি অংশকে ধ্বংস এবং বাকিদের দাসত্বে আবদ্ধ করার একটি রূপরেখা।
- যতদিন ইসরায়েলি 'দখলদারিত্ব' থাকবে, ততদিন তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
- যতদিন লেবাননের গ্রামগুলো অনিরাপদ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত থাকবে, ততদিন উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলোও নিরাপদ থাকবে না।
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন:
- ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রাখবে।
- ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।
- দখলকৃত নিরাপত্তা অঞ্চল (বোফোর্ট দুর্গসহ) থেকে এখনই সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
সংঘাতের ভয়াবহতা ও প্রভাব
- মানবিক বিপর্যয়: ইসরায়েলি অভিযানের ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
- সামরিক হামলা: লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সোহমোর শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা: ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী:
১. হিজবুল্লাহ গোলাবর্ষণ বন্ধ করবে এবং সীমান্ত এলাকা থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে নেবে।
২. লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।
৩. দ্রুত একটি 'পাইলট জোন' তৈরির মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের চেষ্টা চালানো হবে।
তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতায় এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
(সংবাদটি ৪ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি)
