তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ঢাকাসহ দেশের ৩৪ জেলা


 ‎জ্যৈষ্ঠের খরতাপে পুড়ছে সারা দেশ। ঢাকাসহ দেশের ৩৪টি জেলা তাপপ্রবাহের কবলে। ৩১ মে (রবিবার) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজধানী ঢাকায় যা ছিল ৩৬ দশমিক ৪।


‎তাপপ্রবাহের সঙ্গে প্রায় বৃষ্টিহীন রয়েছে দেশের বেশির ভাগ অঞ্চল। রোববার সবচেয়ে বেশি ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে।


‎আজ সোমবার দেশের ৮টি বিভাগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই।


‎পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চল অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে সারা দেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


‎আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, দেশের ৩৪টি জেলায় বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। এর প্রভাবে আজ সোমবারও গরম থাকবে। তবে তাপপ্রবাহের পরিধি কমে আসতে পারে।


‎তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। ৩ জুন থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। এ সপ্তাহে টেকনাফ উপকূলে মৌসুমি বায়ু অগ্রসর হতে পারে, তখন বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়বে।


‎এদিকে সোমবার সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

‎​মে-জুন ২০২৬: জ্যৈষ্ঠের তীব্র তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির পূর্বাভাস

‎​বর্তমান সময়ে জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়ে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও অস্বস্তিকর। নিচে বিস্তারিত তথ্যগুলো পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলো:

‎​১. তাপপ্রবাহের বর্তমান চিত্র

‎​আক্রান্ত এলাকা: দেশের মোট ৩৪টি জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা জনজীবনে স্থবিরতা তৈরি করেছে।

‎​সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৩১ মে (রবিবার) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

‎​রাজধানীর তাপমাত্রা: ঢাকায় রবিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সোমবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

‎​বৃষ্টিহীনতা: অধিকাংশ অঞ্চলে দীর্ঘসময় বৃষ্টি না হওয়ায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। রবিবার সর্বোচ্চ ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে টেকনাফে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশ কম।

‎​২. আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস (আবহাওয়া অধিদপ্তর)

‎​আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে পরিস্থিতির বিবর্তন এভাবে হতে পারে:

‎​সোমবারের বৃষ্টি: দেশের ৮টি বিভাগেই ছিটেফোঁটা বা হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। বাকি বিভাগগুলোতে (ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল) বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

‎​তাপমাত্রা পরিস্থিতি: আপাতদৃষ্টিতে তাপমাত্রা খুব একটা কমছে না। দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে গরমের অস্বস্তি অব্যাহত থাকবে।

‎​পরিবর্তনের সময়: ৩ জুন থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

‎​৩. মৌসুমি বায়ুর আগমন

‎​আবহাওয়া বিজ্ঞানী ড. আবুল কালাম মল্লিকের মতে, চলতি সপ্তাহেই টেকনাফ উপকূল দিয়ে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু (Monsoon) প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বায়ুপ্রবাহ সক্রিয় হলে সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে এবং তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে দেশ মুক্তি পেতে পারে।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post