মঙ্গলের পাতলা বাতাসেও উড়ছে ড্রোন, নতুন যুগের সন্ধানে নাসা

 নিউজ রিপোর্ট:

মঙ্গল গ্রহে ড্রোন পরিচালনা: অসম্ভবকে জয় করে নতুন দিগন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৫ জুন, ২০২৬



দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের মনে প্রশ্ন ছিল, পৃথিবীর তুলনায় অত্যন্ত পাতলা বায়ুমণ্ডলবিশিষ্ট মঙ্গল গ্রহে কি আদৌ কোনো ড্রোন বা আকাশযান ওড়ানো সম্ভব? ২০২১ সালের ১৯ এপ্রিল নাসার 'ইনজেনুইটি' (Ingenuity) হেলিকপ্টারের সফল উড্ডয়ন সেই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর দিয়েছে। এর মাধ্যমে অন্য কোনো গ্রহে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও চালিত ফ্লাইটের ইতিহাস রচিত হয়।  

মঙ্গলের আকাশে ওড়ার চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের আকাশযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ছিল এর বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ পাতলা (পৃথিবীর মাত্র ১ শতাংশ)। বায়ুর অণু কম থাকায় হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেড থেকে পর্যাপ্ত ‘লিফট’ বা ঊর্ধ্বমুখী শক্তি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল।  

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নাসা ও বিজ্ঞানীরা নিচের পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলেন:  

উচ্চগতি: রোটর ব্লেডগুলোকে পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি দ্রুতগতিতে ঘোরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।  

ওজন ও গঠন: ড্রোনটিকে অত্যন্ত হালকা ও শক্তিশালী উপাদানে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি কম বাতাসেও ভারসাম্য রাখতে পারে।  

স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ: পৃথিবী থেকে মঙ্গলে রেডিও সিগন্যাল পৌঁছাতে কয়েক মিনিট সময় লাগে, তাই ড্রোনটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ওড়ার উপযোগী করা হয়েছে।  

 ইনজেনুইটির সাফল্য ও ভবিষ্যৎ মিশন

প্রথমে মাত্র পাঁচটি পরীক্ষার জন্য পরিকল্পনা করা হলেও, ইনজেনুইটি প্রায় তিন বছরে মোট ৭২টি সফল ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে। এটি মঙ্গলপৃষ্ঠের বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করে রোভারের পথ চলা সহজ করেছে এবং ভবিষ্যতের মানুষবাহী মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে।  

নাসা এখন এই সফলতার ওপর ভিত্তি করে 'স্কাইফল' (Skyfall) নামক নতুন একটি মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ মঙ্গলে পৌঁছাবে। এই নতুন ড্রোনগুলোতে থাকবে পারমাণবিক শক্তিচালিত প্রপালশন সিস্টেম এবং আরও উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা মঙ্গলের কঠিনতম এলাকায় অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করবে।  

এই সাফল্যের ফলে মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহের দুর্গম এলাকা এবং মঙ্গলের মাটির নিচে থাকা বরফের তথ্য সংগ্রহ করা অনেক সহজ হবে।  

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post