ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত ১০
ইউক্রেন ডেস্ক: কিয়েভ, দনিপ্রো এবং খারকিভসহ ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোতে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে চালানো এই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। কয়েক দিন ধরেই মস্কোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলার সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছিল।
হামলার বিভীষিকা
হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ওলহা মুদ্রা বলেন, "আমরা বুঝতেই পারছিলাম না কী ঘটছে। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ সময় এসে গেছে। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিল, সবকিছু ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল।"
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
- কিয়েভ: শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ তলাবিশিষ্ট একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া নয়তলা বিশিষ্ট আরও একটি আবাসিক ভবনসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লেগেছে। কিয়েভে হামলায় অন্তত চারজন নিহত ও শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন।
- দনিপ্রো: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এই শহর এবং এর আশেপাশের এলাকায় হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা জানিয়েছেন, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
- খারকিভ: উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই অঞ্চলেও রুশ হামলায় একটি শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। পাল্টা জবাব হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সম্প্রতি লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহতের ঘটনার পর ক্রেমলিন কিয়েভে ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছিল। যদিও ইউক্রেন ওই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে। মঙ্গলবার ভোর হওয়ার পরও কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল ছিল।
কিয়েভ এবং দনিপ্রোর মতো ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হা’ম’লা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১০ জন নি’হ’ত এবং প্রায় ১০০ জন আ’হ’ত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মস্কোর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে কয়েক দিন ধরে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে এ হামলা চালানো হয়।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যু’দ্ধে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও এ বছর রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে। উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হা’ম’লায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জবাবে ক্রেমলিন কিয়েভে ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছে। তবে ইউক্রেন ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রুশ হা’ম’লায় অন্তত চারজন নিহত এবং শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। হা’ম’লার পর তোলা ছবিতে উঁচু ভবনের ওপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।
হামলার একটি স্থানের বাসিন্দা ওলহা মুদ্রা তার ছয় বছর বয়সী মেয়ে নাতালিয়াকে নিয়ে আতঙ্কের মুহূর্তের কথা বর্ণনা করে বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারছিলাম না কী ঘটছে। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ সময় এসে গেছে।’
হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওলহা মুদ্রা বলেন, ‘চারদিকে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিল, সবকিছু ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।’ ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি আবাসিক ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, একটি সন্দেহভাজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশ ধসে পড়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি নয়তলা আবাসিক ভবনসহ আরও কয়েকটি ভবনে আগুন লেগেছে। ক্লিচকো বলেন, ‘ওবোলন জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি গাড়িতে আগুন লেগেছে। খোলা জায়গার অন্তত দুটি স্থানেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, যার একটি একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছাকাছি।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার ভোরে রুশ হামলা থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিতে ছুটে যান। অনেককে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গদি সঙ্গে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে। এ সময় শহরজুড়ে রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গর্জন শোনা যাচ্ছিল।
ভোর হওয়ার পরও কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী। ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডনিপ্রো এবং আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা’ম’লায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা।
তিনি জানান, আ’হ’ত সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আবাসিক ভবন, পুড়ে যাওয়া যানবাহন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের খেলার মাঠের ছবিও প্রকাশ করেছেন। এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের বেশির ভাগ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলেও রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হা’ম’লায় একটি শিশুসহ অন্তত ১০ জন আ’হ’ত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন শহরের মেয়র ইহর তেরেখভ।