নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার স্থান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) থেকে সরকারি গোপনীয়তায় ব্যবহৃত 'রেড লাইন' বা লাল টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, কোনো এক দুষ্কৃতকারী কৌশলে অফিসের ভেতরের লাইন থেকে গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোনের তার কেটে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জরুরি যোগাযোগ করতে গিয়ে টেলিফোন লাইনটি সচল না থাকায় কর্মকর্তাদের নজরে আসে বিষয়টি। পরবর্তীতে কারিগরি টিম পরীক্ষা করে দেখে যে, অফিসের ভেতরে নির্দিষ্ট একটি সংযোগ বক্স থেকে তার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এটি কোনো সাধারণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি পরিকল্পিত চুরি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ব্যবহৃত লাল টেলিফোন বা 'রেড ফোন' হলো বিশেষায়িত যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা অত্যন্ত নিরাপদ ও উচ্চপর্যায়ের গোপনীয় আলোচনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই লাইনের তার কাটা বা চুরির ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে উঠে আসছে:
সিস্টেমের ত্রুটি: অফিসের মতো একটি উচ্চ নিরাপত্তা এলাকায় বহিরাগত কেউ বা দায়িত্বরত কেউ কীভাবে এই তার কাটার সাহস পেল?
তথ্য হাতবদল: চোর কি কেবল তামার তারের জন্য এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড় ষড়যন্ত্র বা স্পর্শকাতর তথ্য পাওয়ার চেষ্টা ছিল?
নিরাপত্তা গাফিলতি: প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা
ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রধান তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে এবং ওই এলাকায় কর্মরত সকল স্টাফ ও নিরাপত্তা সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো কাউকে আটক করা না গেলেও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এটি কেবল সাধারণ চুরির ঘটনা হিসেবে না দেখে, এর পেছনে নাশকতা বা গুপ্তচরবৃত্তির কোনো সংযোগ আছে কি না, তাও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
এই ধরনের ঘটনা দেশের সর্বোচ্চ দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন খুব দ্রুতই প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
