তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি: লক্ষণ ও বাঁচার উপায়
দেশজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহ ও অস্বস্তিকর গরমে সুস্থ থাকাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক মনে করেন ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়া হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নেই, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, পানিশূন্যতা থাকলে মাত্র ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেই যেকোনো সুস্থ মানুষ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন।
হিটস্ট্রোকের সতর্ক সংকেত
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিটস্ট্রোক হঠাৎ হয় না; শরীর আগে থেকেই কিছু সংকেত দেয়। ডা. প্রাণজিৎ ভৌমিকের পরামর্শ অনুযায়ী, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হতে হবে:
- অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
- চরম ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব করা।
- মাথা ঘোরা বা দুর্বল বোধ হওয়া।
- তীব্র মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব।
- মাংসপেশিতে তীব্র টান বা ক্র্যাম্প লাগা।
কেন হিটস্ট্রোক হয়: পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাব বা ‘পুওর ভেন্টিলেশন’ হিটস্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ। বদ্ধ পরিবেশে ঘাম বাষ্পীভূত হতে না পারায় শরীরের শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
সাধারণ কিছু ভুল যা এড়িয়ে চলতে হবে
অসচেতনতায় আমরা এমন কিছু ভুল করি যা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়:
- পর্যাপ্ত পানি পান না করা।
- টাইট বা গাঢ় রঙের পোশাক পরা।
- রোদে বের হওয়ার সময় মাথায় কোনো সুরক্ষা (টুপি/ছাতা) ব্যবহার না করা।
- এসি রুমে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে তৃষ্ণা না পেয়ে পানি পান বন্ধ রাখা।
প্রতিরোধে কার্যকরী টিপস
শরীরের ভারসাম্য রক্ষা: শুধু পানি পানই যথেষ্ট নয়; ঘামের সাথে বেরিয়ে যাওয়া ইলেকট্রোলাইট পূরণ করতে লেবুর শরবত, ঘোল বা কাঁচা আমের পান্না নিয়মিত পান করুন। এছাড়া বাইরে বের হলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক ও ছাতা ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
কাজের ফাঁকে অবশ্যই ছোট ছোট বিরতি নিন এবং বদ্ধ ঘর এড়িয়ে বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। সামান্য অসুস্থ বোধ করলেই ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিন এবং প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ করুন।
