পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ

পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ

প্রকাশকাল: ৫ জুন, ২০২৬ | বিভাগ: পরিবেশ ও জাতীয় উন্নয়ন


জলবায়ু পরিবর্তন আজ কেবল একটি শব্দ নয়, বরং মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মসূচির মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন তিনি।

জলবায়ু সংকট ও বাংলাদেশের ঝুঁকি

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান নগণ্য হলেও, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র। উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ‘জলবায়ু ঝুঁকি সূচক-২০২৬’ অনুযায়ী বাংলাদেশ বর্তমানে এক নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান: সরকার এখন ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP)’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপকূলীয় নিরাপত্তা, সামাজিক বনায়ন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব মহাপরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন:

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ (আগামী ৫ বছর)
২০ হাজার কিমি খাল খনন ও পুনঃখনন

টেকসই শিল্পায়ন ও কৃষির আধুনিকায়ন

প্রধানমন্ত্রী কৃষি খাতের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু (Climate-resilient) হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy), সবুজ শিল্পায়ন (Green Industrialization) এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কূটনৈতিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।

জনগণের প্রতি আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীর শেষে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান, “সকলের সমন্বিত উদ্যোগ ও সচেতনতার মাধ্যমেই একটি চিরসবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।” সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং সাধারণ জনগণকে এই বৃহৎ জাতীয় কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post