সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে কুরাসাও

ফুটবল বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক | আপডেট: ১৫ জুন, ২০২৬


ফুটবল ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নাম লিখিয়েছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। প্রায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার ছোট্ট এই দেশটি জনসংখ্যা এবং আয়তন—উভয় দিক থেকেই ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া সর্বকালের সবচেয়ে ছোট দেশ। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল আইসল্যান্ডের (জনসংখ্যা প্রায় ৩.৫ লক্ষ)।

যোগ্যতা অর্জনের অবিশ্বাস্য সফর

কনকাকাফ (CONCACAF) অঞ্চলের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করে চূড়ান্ত পর্বে পা রাখে কুরাসাও। এরপর জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং বারমুডার মতো শক্তিশালী দলগুলোর সাথে লড়াই করে গ্রুপ 'বি'-র শীর্ষস্থান অর্জন করে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট কাটে ‘দ্য ব্লু ওয়েভ’ খ্যাত দলটি। বাছাইপর্বের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পার করে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে তারা।



ডাচ কানেকশন ও ডিক অ্যাডভোকেটের জাদু

নেদারল্যান্ডসের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হওয়ায় কুরাসাওয়ের ফুটবলে ডাচ প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। দলের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই বড় হয়েছেন। ডাচ ফুটবল সিস্টেমের এই দারুণ প্রতিভাদের এক সুতোয় বেঁধেছেন দলটির ৭৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেট। এই বয়সে ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হওয়ার রেকর্ডও গড়েছেন।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ও ঐতিহাসিক গোল

গত ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে কুরাসাও তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে। শক্তিশালী জার্মানির কাছে ৭-১ ব্যবধানে হারলেও, ম্যাচের ২১ মিনিটে কুরাসাওয়ের তরুণ মিডফিল্ডার লিভানো কোমেনেনসিয়া দলের হয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ঐতিহাসিক গোলটি করেন।

হারলেও ভেঙে পড়ছে না কুরাসাও। গ্রুপ পর্বে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলো রয়েছে ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। নিজেদের লড়াকু মানসিকতা ধরে রেখে বিশ্বমঞ্চে বড় কোনো চমক দেখাতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post