দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু


 

‎দেশে ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী ৪৫ জন। ১ জুন (সোমবার) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


‎স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে ৫৮৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৪৯৮ এবং হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯০ শিশু।


‎১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয় ৭২ হাজার ০৭০ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৭ হাজার ৯০২ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৫৩ হাজার ৭২২ শিশু বাড়ি ফিরেছে।


‎এছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ০৯৪।সংক্রমণের সামগ্রিক চিত্র (১৫ মার্চ থেকে ১ জুন ২০২৬)

‎​গত আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ ক্রমাগত বাড়ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে:

‎​মোট আক্রান্ত: মোট ৭২,০৭০ জন শিশু হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে।

‎​হাসপাতালে ভর্তি: মোট ৫৭,৯০২ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

‎​নিশ্চিত হাম রোগী: আক্রান্তদের মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ৯,০৯৪ জনের ক্ষেত্রে হাম শনাক্ত হয়েছে।

‎​মৃত্যু ও সুস্থতার পরিসংখ্যান

‎​হামের ভয়াবহতা বোঝা যাচ্ছে মৃত্যুহার এবং হাসপাতালে ভর্তির তথ্যের মাধ্যমে:

‎বিষয় সংখ্যা

‎মোট মৃত্যু ৫৮৮ জন

‎হামে নিশ্চিত মৃত্যু ৯০ জন

‎হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৪৯৮ জন

‎মোট সুস্থতা ৫৩,৭২২

‎২৪ ঘণ্টার সর্বশেষ পরিস্থিতি (৩১ মে সকাল ৮টা - ১ জুন সকাল ৮টা)

‎​সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্য করা গেছে:

‎​নতুন করে ১,১৭৯ জন শিশু হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

‎​এই সময়ের মধ্যে আরও ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

‎​গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৫ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।

‎​বিশ্লেষণ ও করণীয়

‎​স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই তথ্য নির্দেশ করে যে, শুধু নিশ্চিত হাম নয়, বরং হামের মতো উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের ক্ষেত্রেও মৃত্যুহার অনেক বেশি। সংক্রমণের এই হার নিয়ন্ত্রণে আনতে সাধারণত যে পদক্ষেপগুলো জরুরি, তা হলো:

‎​১. টিকা কার্যক্রম জোরদার: হামের টিকা (Measles Vaccine) শতভাগ শিশুকে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

‎২. সচেতনতা বৃদ্ধি: হামের উপসর্গ (যেমন—শরীরে লাল র‍্যাশ, উচ্চ জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া) দেখা দেওয়া মাত্রই শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

‎৩. আইসোলেশন: হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।

‎৪. পুষ্টি নিশ্চিত করা: হামের রোগীদের ক্ষেত্রে ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্টেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

إرسال تعليق (0)
أحدث أقدم