সীমান্তে 'পুশইন' বনাম কূটনীতি: ফুটবল উত্তেজনার মাঝেও নজর টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায়
১৪ জুন ২০২৬ ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের শুভ সূচনা। মরক্কোর সাথে খেলবে টপ ফেবারিট ব্রাজিল। ১৭ জুন আলজেরিয়ার সঙ্গে ওয়ার্ল্ড পপুলার আর্জেন্টিনা। কিন্তু তুলনামূলকভাবে এবার বাংলাদেশে উত্তেজনা কম। কারণ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চলছে অন্য খেলা। পুশইন বা মানুষ ঠেলার তীব্র প্রতিযোগিতা। ভারতের বিএসএফ ঠেলছে, বাংলাদেশের বিজিবি ঠেকাচ্ছে। এই ‘সীমান্ত কাপ’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ জয়ী। জনপ্রহরার কারণে পুশইন হয়নি একটি মানবও। নীরব পরাজয় হলো নিকটবর্তী রাজ্যের দুই ধর্মান্ধ মুখ্যমন্ত্রীর- পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের ড. হিমন্ত বিশ্বশর্মার।
‘অবৈধ বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে পুশইন প্রচেষ্টা চরমে। যদিও অধিকাংশের জন্ম ভারত ভূখণ্ডে। বাংলাদেশের নাগরিকত্বের উপযুক্ত প্রমাণপত্র নেই। সীমান্ত অতিক্রমে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র নেই। ফলে বিজিবি- বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড অনমনীয়। প্রায় ১৭টি পয়েন্টে ‘পুশইন’ ঠেকিয়েছে। পাশে ছিল সীমান্তের ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। নো-ম্যানস ল্যান্ড বা শূন্যভিত্তিক মানবিক চিত্র। শত শত মানুষ আটকে পড়ে দুই বর্ডারের মাঝে। খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয় ৩-৪ দিন। না, কোনো এনজিও, না সরকার সাহায্য দেয়নি। মেঘ-বৃষ্টি আর চোখের জলে একাকার পরিস্থিতি। বাংলাদেশ ৬টি চিঠি পাঠায় দিল্লিতে। অবশেষে ১১-১৫ জুন কূটনৈতিক বৈঠক। দিল্লি ছুটে যান বিএসএফ প্রধান ಪ್ರವೀಣ್ ಕುಮಾರ್ (প্রবীণ কুমার)। বৈঠক শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুশইন স্থগিত। অর্থাৎ সীমান্ত কাপ টুর্নামেন্টের বিষয়টি গড়ালো কূটনীতির টেবিলে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি পরিসংখ্যানে নতুন বিতর্ক। বলেছেন ৪,৮০০ জনকে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষায় আছে আরো ৮,৩৬ জন। ঢাকা-দিল্লি সীমান্ত বৈঠকে বক্তব্যের সত্যতা মিলছে না। মিডিয়াও শুভেন্দু বাবুর প্রামাণ্য বক্তব্য পাচ্ছে না।
তৃণমূল ছিনতাই: গড়ার চেয়ে ভাঙছে বেশি শুভেন্দু (মমতার সাথে বিজেপির সংযোগ)
মে মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে এনেছেন শতাধিক বুলডোজার। রেলসংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা ভেঙে চলেছেন। ফুটপাত, রেলস্টেশনের টং দোকান- পুরোটাই উচ্ছেদ। অগ্রিম কোনো নোটিশ নেই, ভাঙন চলছেই। ঈদুল আজহায় প্রকাশ্যে গরু কোরবানি নিষিদ্ধ। গো-পালক গরিব হিন্দুরা সর্বস্ব হারালো। ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ১০ হাজার মানুষ বেনাগরিক। হোল্ডিং সেন্টার বানিয়ে তাতে স্থানান্তরকরণ।
সচেতন মহলের ধারণা, নতুন সরকার পরিবর্তনকামী। কাজ দেখানোর জন্য এমন ভাঙচুর। কিন্তু ভাঙনের আসল খেলাটি তৃণমূলে। ৮০ জনই ‘এনডিএ’ জোটে। অথচ সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী ‘ইন্ডিয়া জোটে’র। সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তিনি, হঠাৎ অসহায়। নেপথ্য কারণটি এখন প্রকাশ্য। পুরো চালটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তৃণমূলের এমপি-বিধায়কদের সঙ্গে সরকারি কথা বলেছেন। অধিকাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। মামলা থেকে বাঁচতে সরকারের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ। ফলে সহজেই তৃণমূলে ভাঙন ধরালেন শুভেন্দু।
অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জীও বসে নেই। ‘ইন্ডিয়া জোটে’র দিল্লি বৈঠকে ‘মুখ্য মুখ’ ছিলেন। সরকারকে ৫টি বিষয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন জালিয়াতি ও বিরোধী দলকে হয়রানি বিষয়ে। দিল্লিতে থেকে আরেকটি বিষয়ে আছে অগ্রগতি। হালের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির সঙ্গে সংযোগ। আম আদমি পার্টি-প্রধান কেজরিওয়াল এক্ষেত্রে অনুঘটক। তাঁর সাবেক সহকর্মী অভিজিৎ দীপক সিজেপির নেতৃত্বে। জেন-জি’র দলটি তৃণমূল ট্র্যাজেডিতে বিক্ষুব্ধ। তাদের নতুন ইস্যু- হিন্দু-মুসলিম ধর্মীয় বিভাজন বন্ধকরণ। অচিরেই বিজেপিবিরোধী দ্বিতীয় সমাবেশ ডাকছে।
ভারতের দাদাগিরি কমছে, বাড়ছে কৌশল: তিস্তা-চীন মহাপ্রকল্প ঘিরে যুদ্ধের প্রস্তুতি
মহাচীন ঘনিষ্ঠ দুটি বৃহৎ প্রকল্প বাংলাদেশের হাতে। এক পা যেতে তিন পা টলছে তারেক রহমান সরকার। চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও তিস্তা-চীন মহাপ্রকল্প। হবে হবে করেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো না। গত ৮ জুনের একনেক সভাতে পাস হলো না প্রকল্প। নেপথ্য কারণ- প্রথমত যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ। তথ্যমতে, প্রকল্প ঠেকাতে যুদ্ধ বাঁধাবে ভারত। গোপন সূত্রে যুদ্ধ প্রস্তুতির আভাসও মিলেছে polarization।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এখন বাংলাদেশ। ভারত vote না দিলেও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে ‘টোনডাউন’ করেছে ভারত। বাংলাদেশের ওপর ‘দাদাগিরি’ কমিয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক যুদ্ধাস্ত্রে সাজাচ্ছে বাংলাদেশকে। ড্রোন কারখানাও বানিয়ে দিচ্ছে তুরস্ক। নতুন ট্রেড চুক্তির কারণে আমেরিকা দিচ্ছে নিরাপত্তা। কিন্তু মার্কিন সম্প্রীতির কারণে চীন কি সহযোগিতায় বহাল থাকবে? প্রশ্ন উদিত হয়েছে খোদ বাংলাদেশের হৃদয়ে।
অবশেষে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া হয়ে জুনের trzeci সপ্তাহের কাঙ্ক্ষিত সফর। তাতে প্রত্যাশা- চীনের কাছ থেকে বিশাল প্রতিশ্রুতি। তা হলো- যুদ্ধ বাঁধলে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস। ভারতের যুদ্ধ প্রস্তুতির কিছু গোপন তথ্যও আলোচ্য। বিশেষ করে বৃহত্তর রংপুর দখলের পদক্ষেপসমূহ। প্রস্তাবিত তিস্তা-চীন প্রকল্পের সন্নিকটেই শিলিগুড়ি করিডোর (২২ কিলোমিটার ‘চিকেন নেক’), যা সেভেন সিস্টার্সের সংযোগসূত্র। এমন স্পর্শকাতর স্থানে চীনের সংযুক্তি ভারতের কাম্য নয়। এজন্য যে কোনো মূল্যে প্রকল্প প্রতিহতকরণে বদ্ধপরিকর।
রংপুর ও গাইবান্ধা সীমান্তে ঘনীভূত সংকট
ভারতের যুদ্ধ প্রস্তুতির তথ্য বাংলাদেশ পেয়েছে। সীমান্তসংলগ্ন গাইবান্ধার পলাশবাড়িকে সাজানো হয়েছে। সেখানে নির্মিত হয়েছে ৪০ কোটি টাকার ‘রামমূর্তি’। সূচনা ঘটানো হয়েছে ‘গীতা মহোৎসবের’। বাংলাদেশে ভারতের deputy হাইকমিশনার উদ্বোধক। নির্মিত হচ্ছে ১৫৪ ফুট উচ্চতার সূর্যমন্দির। উল্লেখ্য, সেখানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। হিন্দু সম্প্রদায় মাত্র সাড়ে ৬ হাজার। কিন্তু সীমান্তসংলগ্ন বলে পাতানো হচ্ছে ঘাঁটি। এলাকার মুসলিম সম্প্রদায় প্রকাশ করেছে উদ্বেগ।
সূত্র মতে, ভারত সেখানে একটি আক্রমণ চায়। উগ্র মুসলমানেরা রামমূর্তি ভাঙুক, তা চায়। সেক্ষেত্রে প্রতিহতকরণের নামে ভারতীয় সৈন্য ঢুকবে। নিরাপত্তার নামে দখল নেবে ‘বৃহত্তর রংপুরের’। এলাকা উদ্ধারের নামে চলবে সামরিক যুদ্ধ। এরকম সম্ভাবনার তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দারা।
ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা লিখিত দুটি পরামর্শ দিয়েছেন। ভারত কায়দা লিখেছে- দুটি অঞ্চল দখলে চাই। চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর রংপুর। উল্লেখ্য, দুটি এলাকাতেই চীনের প্রস্তাবিত প্রকল্প। প্রথমটি ‘চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল’। দ্বিতীয়টি বৃহত্তর রংপুরে ‘তিস্তা-চীন মহাপ্রকল্প’। এগুলো পাস করার আগে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি নেবেন- ভারত যুদ্ধ বাঁধলে চীন প্রতিহতকরণে ভূমিকা রাখবে।
যদি শক্ত প্রতিশ্রুতি মেলে, ঝুঁকি নেবে বাংলাদেশ। ঝুলে থাকা তিস্তা সমস্যার সমাধানে আসবে কালজয়ী সমাধান। বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডার মেলে দেবে সমৃদ্ধির সাফল্য।
